সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ড. রহিমা খাতুন প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যাপক অবদান রাখায় চট্টগ্রাম বিভাগে শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হয়েছেন। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০১৫ এর ১৯টি ক্যাটাগরির মধ্যে তিনি ইউএনও পদে এ বিভাগে শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাচিত হন। গত বছর তিনি নোয়াখালী জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ এবং এবছর প্রথমে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ও পরে বিভাগে শ্রেষ্ঠ জন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইউএনও হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ড. রহিমা খাতুন গত ২০১৩ সালের ৮জুলাই সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে যোগদান করেন। যোগদানের পর তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ, বাল্য বিবাহ, চোরাচালান, ভেজালবিরোধী অভিযান ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারে মিড ডে মিল চালুসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে ভুমিকা রেখে খ্যাতি অর্জন করেন। এছাড়াও সোনাইমুড়ীতে স্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণ এবং বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন চত্বর নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে তার উদ্যোগে শুরু হয়েছে।
শিশুর অপার বিষ্ময়বোধ,অসৗম কৌতুহল, অফুরন্ত আনন্দ ও উদ্যোমের মতো মানবিক বৃুত্তির সুষ্ঠ বিকাশ সাধনের মেীল পটভূমিতে পরমিার্জিত হয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। সেই প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে সোনাইমুড়ি উপজেলার প্রায় প্রত্যেকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদাচরণ করেছেন ড. রহিমা খাতুন। একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলার প্রত্যেকটি দপ্তরে তিনি নিভিড়ভাবে তত্বাবধান করেন বলে জানা যায়। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে উপজেলা নির্বাহী হিসেবে এমন উদ্যোগ সোনাইমূড়ীতে বিরল।
সোনাইমুড়ী উপজেলাসহ ৯টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত নোয়াখালী জেলা। তেমনি ১৫টি জেলা নিয়ে গঠিত চট্রগ্রাম বিভাগ। এভাবে সারা দেশের ৭টি বিভাগ এর ৭জন শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহীর মধ্যে আমাদের সোনাইমুড়ী উপজেলার একজন। এ বিজয় পুরো উপজেলাবাসীর। আর এই কৃতিত্বের অবদান যে মহীয়সী নারীর তার সম্মান দেবে উপজেলাবাসী। কারন যে দেশে গুনীর সমাদর নেই সে দেশে গূণী জন্মাতে পারেনা।
শিক্ষা ব্যবস্থায় উন্নতির জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন। শিক্ষ্া প্রতিষ্ঠান গুলোতে পর্যাপ্ত ভবন, শিক্ষক, শিক্ষা উপকরণ, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। তারপরও প্রায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর ফলাফল সন্তোষজনক দেখা যায় না। এ ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন সভা সেমিনার, জাতীয় দিবসে নানা কথা বলতে শুনেছি, কিন্তু আশানুরূপ ফলাফল দেখা যায়নি।
ড. রহিমা খাতুনের অনেক গুলো ভালো কাজের মধ্যে একটি হচ্ছে তিনি সরাসরি প্রত্যেকটি কাজে অংশগ্রহন করেছেন এবং প্রত্যক্ষভাবে যোগাযোগ রেখেছেন বলে জানা যায়। তাঁর উল্লেখযোগ্য একটি পদক্ষেপ হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে মিড ডে মিল তথা দুপুরের খাবারের আয়োজন। ০১নং জয়াগ ইউনিয়নের অন্তর্গত তুষি যুগিখিল পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়-এ মিড ডে মিল বিতরন করতে এসে সাংবাদিকদের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “উপজেলার ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সপ্তাহে ৫দিন রান্না করা খিচুড়ি, ১টি করে ডিম পরিবেশন করা হবে।” এজন্য একজন বাবুর্চি সহ রান্নার সামগ্রী বরাদ্দ দিযেছেন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি জানান এরপর পর্যায়ক্রমে বাকী ১০৭টি বিদ্যালয় একইভাবে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিল দেয়া হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শারীরীক পূষ্টি চাহিদা অক্ষুন্ন থাকবে, শিক্ষার হার বাড়বে, ড্রফআউট কমে যাবে, উপস্থিতির সংখ্যা বাড়তে থাকবে। তিনি বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন, পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা, মা সমাবেশে উপস্থিতি, উঠান বৈঠক, মিড ডে মিলসহ যাবতীয় কার্যাদিতে সরাসরি অংশগ্রহণ করছেন। তিনি বলেন এ ব্যবস্থা উন্নতির জন্য আরো পদক্ষেপ নেয়া হবে। যেমন- শিক্ষক/ শিক্ষিকাদের ক্লাষ্টার মিটিং গুলোতে সরাসরি অংশগ্রহণ, শিক্ষক/শিক্ষিকাদের নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে নিজে সভা সেমিনারে অংশগ্রহন অন্যতম। তিনি আরো বলেন, “শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকই হচ্ছেন সর্বোৎকৃষ্ট পদ্ধতি বলে আমি মনে করি।”
প্রসঙ্গতঃ ড. রহিমা ১৯৭৬সালে গাজীপুর জেলার এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন। তার বাবা নুর মোহাম্মদ ফকির, মাতা তমিজা খাতুন। তিনি ১৯৯৭সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণিতে ¯œাতক (সম্মান) ও ১৯৯৮সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে ¯œাতকোত্তর, ২০০৯ সালে জাপানের হোক্কাইডো ইউনিভার্সিটি থেকে এনভায়রনমেন্টাল মেটেরিয়ালস সায়েন্স বিসয়ে পিইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ২০১৩সালের বিসিএস তিনি প্রশাসক ক্যাডারে যোগদান করেন। সহকারী কমিশনার হিসেবে রাজশানী, ঢাকা, রংপুর, নারায়নগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে, সহকারী সচিব পদে জনপ্রশাসক মন্ত্রণালয়ে চাকরি করেন। ড. রহিমা খাতুন বিভাগের সেরা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীত হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তিনি সকলের দোয়া, আন্তরিক সহযোগীতা, পরামর্শ, প্রেরণা, উৎসাহ উদ্দীপনায় চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হওয়ার জন্য সকলের দোয়া কামনা করেছেন।
http://www.samakal.net/2015/09/06/160172
https://web.facebook.com/photo.php?fbid=861457177307756&set=o.1496664057284772&type=3&theater
Planning and Implementation: Cabinet Division, A2I, BCC, DoICT and BASIS